প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 10, 2026 ইং
মিষ্টি কুমড়োর হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট

মাগুরা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলার নবগঙ্গার গঙ্গারামপুর বাজারে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি কুমরো ফুল ও শাক। এ বাজারে কৃষকরা সারি সারি পসরা সাজিয়ে চড়া দামে এ ফুল এবং শাক বিক্রি করছেন।
গঙ্গারামপুর বাজারে আসা স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে আশেপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা খেত থেকে তুলে আনা সতেজ কুমড়ো ফুল ও শাক বাজারে নিয়ে আসেন। কুচকুচে সবুজ পাতার সাথে উজ্জ্বল হলুদ ফুলের আঁটিগুলো দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি রান্নায় এর স্বাদও অতুলনীয়। ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে এই ফুলের আটি বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা যা থেকে এখন বাড়তি আয় করছেন।
ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ বাজারে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ কুমড়ো ফুল ও শাক বিক্রি হচ্ছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কুমড়ো ফুল দেখতে সাধারণ হলেও এর ফুল এবং ডগা পুষ্টির এক অনন্য আধার। এতে রয়েছে প্রভূত স্বাস্থ্য উপকারিতা। উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ক্যারোটিনয়েড’ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকার কারণে এটি দাঁত ও হাড় মজবুত করতে অত্যন্ত কার্যকরী এবং প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকায় তা হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
কুমড়ো ফুল কিনতে আসা নার্গিস নামে এক গৃহিণী বলেন, “কুমড়া ফুলের তৈরি চপ ও বড়া খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। তাই মাঝেমাঝেই আমি এখানে কুমড়ো ফুল নিতে আসি।”
কৃষকরা বলছেন,তারা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদ করেছেন। এখান থেকে কুমড়া বিক্রি করেন। আবার বাড়তি হিসাবে ফুল এবং শাক বিক্রি করছেন। এতে তাদের বাড়তি আয় হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন,কুমড়ো ফুল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত পরাগায়নের পরে, এই ফুলগুলি গাছ থেকে তুলে খাওয়া যায় পাশাপাশি ভালো দামে বিক্রিও করা যায়। আমাদের উচিত এটির প্রতি খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটবে অপরদিকে এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটা অন্যতম উৎস হতে পারে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়