প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 3, 2026 ইং
মডেশ চাকমার উদ্ভাবিত ‘ক্রপস ডক্টর’ ঘরে বসে ফসলের রোগ শনাক্ত করবে

কৃষি সময় ডেস্কঃ মডেশ চাকমা নামে এক শিক্ষার্থী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্বলিত স্মার্ট কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রপস ডক্টর’ উদ্ভাবন করেছেন। সে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)’র শিক্ষার্থী। কৃষিকে অধিক সহজ ও প্রযুক্তি নির্ভর করতে এই প্ল্যাাটফর্ম ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ঘরে বসেই ফসলের রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে পারেন এবং সঠিক সমাধান পাবেন।
উদ্ভাবক মডেশ চাকমা জানান,‘ক্রপস ডক্টর’ কৃষি কাজে সহজে ব্যবহারযোগ্য ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত স্মার্ট কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম । প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষি সেবা সহজ করতেই এই উদ্ভাবন।
তিনি বলেন, ‘ক্রপস ডক্টর’ প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে ফসলের রোগবালাই দ্রুত শনাক্ত করা এবং ঘরে বসেই কৃষকদের সঠিক ও সময় উপযোগী পরামর্শ প্রদান করা। মাঠ পর্যায়ে কৃষি ক্ষেত্রে ফসলের বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই শনাক্ত ও সম্ভাব্য সমাধানের জন্য তার প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে বিস্তারিত গবেষণায় ‘ডিজিজ ডিটেক্টর’ ফিচার। এই ফিচারটির মাধ্যমে আক্রান্ত ফসল ও গাছের ছবি আপলোড করলেই, বিজ্ঞানভিত্তিক আবিষ্কৃত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহজেই ফসলের রোগ-বালাই শনাক্ত করে ফেলা যায়। সেই সাথে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ফসলের সম্ভাব্য সমস্যার সমাধানও খুঁজে পাওয়া যায়।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্ম টি ধান, গম, ভুট্টা, আলু, টমেটো, চা, আখ, পাট, সরিষা, আম, কলা, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও হলুদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলের রোগ-বালাই সহজেই শনাক্ত ও সমাধানে সহায়ক। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফসলের রোগবালাই নিরসনে উপকৃত হচ্ছে। ফলে প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যেই কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
দেশের বাইরের কৃষকদের কথা চিন্তা করে, প্ল্যাটফর্ম টিতে বাংলা ভাষার পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে ইংরেজি ভাষা। ইতোমধ্যেই এই তরুণ উদ্ভাবক চেষ্টা করছেন, আরও কিছু ভাষা যুক্ত করার। যাতে করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষিকাজে যুক্ত ফসল উৎপাদন ও ব্যবহারকারীরা সহজেই নিজেদের ভাষায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এনামউল্যা জানান, কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মডেশ চাকমা আধুনিক প্রযুক্তির কৃষি সহজীকরণে যে উদ্ভাবন করেছেন তা প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছে। এধরণের গবেষণা কার্যক্রম প্রতিনিয়ত হাবিপ্রবিতে চলমান রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়