প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 2, 2026 ইং
মালচিং প্রযুক্তিতে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিছে চাষীরা। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্ষা মৌসুমেও কম খরচে অধিক সবজি উৎপাদন করে মোটা অংকের টাকা আয় করছেন তারা। ভাল ফল পাওয়ায় ক্রমেই বাড়ছে এ পদ্ধতির ব্যবহার।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার হায়াতপুর ও মোবারকপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে বেগুন, করলা, খিরাই, পটল, কাকরোলসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ। সবুজে ছেয়ে আছে চারদিক। কৃষকরা ব্যস্ত এসব সবজির চাষাবাদ,পরিচযায়।
কিছুদিন আগেও এসব মাঠে এ সময়ে তেমন কোন সবজির চাষাবাদ হতো না। বৃষ্টিতে সবজিতে খেতে পানি বেধে থাকা সহ গাছের গোড়া পঁচে যেত। এতে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এ চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো।
কিন্তু সেই চিত্র এখন পাল্টে গেচে। মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার করে এখন কৃষকরা মাঠের পর মাঠ সবজি চাষাবাদ করেছেন।
হায়াতপুর গ্রামের কৃষক মুকুল হোসেন জানান, ‘আগে বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে সবজির গোড়া পচে যেতো। কিন্তু এখন মালচিং পদ্ধতিতে বেড পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখায় গাছের গোড়ায় পানি জমতে পারে না। আগাছাও জন্মায় না। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। তাই কীটনাশকও কম লাগে। শ্রমিক খরচও কমে যায়। ফলে উৎপাদন খরচ কমে, ফলন বাড়ে।
আমি ৪৫ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলার আবাদ করেছি। চলতি মৌসুমে (জুন-আগস্ট) সব খরচ বাদ দিয়ে এ চাষাবাদ থেকে তিনি প্রায় এক লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
হায়াতপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান টুকু এলাকায় কয়েক বছর আগে প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেন । বর্তমানে তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে সবজির আবাদ করছেন। এর মধ্যে আড়াই বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে খিরাই ও বেগুনের চাষ করেছেন। তার দেখা দেখি এখন প্রায় সব কৃষকই এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। সবজি চাষাবাবাদে উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষকরা এখন লাভবান হচ্ছেন।
কৃষকরা জানান,পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় মালচিং উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে নানা সহায়তা।
মালচিং মূলত একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত করে উঁচু বেড তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ ধরনের পলিথিন শিট দিয়ে বেড ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে সেখানে সবজির চারা রোপণ করা হয়।
এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, আগাছা জন্মায় না এবং অতিরিক্ত পানি সহজেই বেডের দুই পাশ দিয়ে নেমে যায়। পাশাপাশি পলিথিনের প্রতিফলিত আলো ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে সহায়তা করায় কীটনাশকের ব্যবহারও কমে আসে।
ফলে তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ ও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হয়।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারে শ্রমিক ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ কমে। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই কৃষকদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়