প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
মাল্টা-কমলার বাগানে রাজুর ভাগ্য

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মাল্টা,কমলা,লেবু চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন রাজু আহম্মেদ নামে এক কৃষি উদ্যোক্তা। শুন্য থেকে শুরু করে এই চাষাবাদের মাধ্যমে বছরে আয় করছেন কয়েক লাখ টাকা। গড়েছেন বিশাল বাগান। সফল এই উদ্যোক্তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামে।
জানা যায়,রাজু এক সময় ব্যবসায় লোকশান দিয়ে কৃষিতে ভাল কিছুু করার প্রত্যায়ে মাঠে নামেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে মাল্টা, কমলা ও লেবুর চাষাবাদ শুরু করেন। প্রায় এক একর জমিতে ৯০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তার। শুরুতে পরিবারের সদস্যসহ অনেকেই এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন । পরিশ্রম আর পরিকল্পনার সুফল পেতে শুরু করেন তিনি। । এরপর সময়ের সঙ্গে সেই সংশয় কেটে যায়।
এই চাষাবাদের শুরুতে মাত্র দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন রাজু। এখান থেকে মাত্র এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই লাখ টাকার ফল বিক্রি করেন। বাগান বড় করার স্বপ্ন দেখতে থাকনে এই উদ্যোক্তা। এখন তার বাগানে ৭শ’র বেশি মাল্টা, কমলা ও লেবুর গাছ হয়েছে। মৌসুমে তার বাগানের উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রি করেন। বাগান থেকে প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন। নিজের আয় রোজগারের টাকা দিয়ে গড়েছেন বাড়ি। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ফলন বাড়াতে নিজেই জৈব সার তৈরি করছেন। এখন তিনি এলাকায় পরিচিত একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।
রাজু বলেন, ‘এই মাল্টা-কমলার বাগান আমাকে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, দেশের মাটিতে, নিজের গ্রামেই থেকে সফল হওয়া সম্ভব। যুবকদের বলব, বেকার বসে না থেকে কৃষি কিংবা যেকোনো উদ্যোক্তা হন। ইনশাআল্লাহ, সফলতা আসবেই।’
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, রাজু আহমদ একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী, আগ্রহী ও উদ্যমী কৃষি উদ্যোক্তা। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি পরিকল্পিতভাবে মাল্টা ওয়ান জাতের বাগান গড়ে তুলেছেন। শুরু থেকেই রাজুকে উন্নতমানের চারা, সার, বালাইনাশক, সেচসুবিধা এবং নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুকনা মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় ডিপ ইরিগেশন ব্যবস্থা এবং জৈব সার ব্যবহারের জন্য ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনেও সহায়তা করা হয়েছে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়