
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে ভট্রার আবাদ আর ফলন দুটোই বেড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ লাখ ১২ হাজার টন ভুট্রা উৎপাদন হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১০ হাজার ৮৬ টন বেড়েছে। ফলন বাড়লেও ভুট্রার কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা।
জানা যায়, রবি মৌসুম ও খরিপ-১ মৌসুমে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৮৮৫ হেক্টর, ২ হাজার ৭৫০, ৩ হাজার ৩৩৫, ১৩ হাজার ৬৯০ ও ১৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ দশমিক ৫০ টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ দশমিক ৯৯ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে।
এখানে তিন মৌসুমের মধ্যে খরিপ-১ ও রবি মৌসুমে কেবল ভুট্টা চাষাবাদ হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষকরা ভূট্রার ফাল ফলন পেয়েছেন।
তবে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি বলে অভিযোগ কৃষকদের। হাতীবান্ধার পারুলিয়া এলাকার ভুট্টা চাষী আশরাফুল আলম জানান, তিনি এবার ১ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করেন। প্রায় ২৭৭ মণ ভুট্টা উৎপাদন হলেও অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ভালো দাম পাওয়া যায়নি। প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে লাভ কম হয়েছে।
পাটগ্রাম উপজেলার ভুট্টা চাষী আব্দুর রাজ্জাক জানান,‘প্রতি হেক্টর জমিতে ২৭৫-২৮০ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়। প্রতি মণ ভুট্টার দাম প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু এ বছর ভুট্টা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন চাষীরা।
সরকার ভুট্টা চাষের দিকে একটু নজর রাখলে কৃষক উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি দেশে উৎপাদনও বাড়বে বলে জানান তিনি।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন জানান, ‘দেশে ভুট্টা ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাড়ার পাশাপাশি চাহিদাও বেড়েছে। ফলে সারা দেশে মোট উৎপাদিত ১৪-১৫ লাখ টন ভুট্টার মধ্যে লালমনিরহাট জেলা থেকে প্রতি বছর চার থেকে সাড়ে চার লাখ টন ভুট্টা জোগান দিচ্ছেন চাষীরা।’
কৃ/স/জয়