প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং
পিরোজপুরে ব্যতিক্রমী ভাসমান পেয়ারার বাজার

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের নেছারাবাদে নদীর উপর গড়ে উঠেছে ভাসমান ব্যতিক্রমী এক পেয়ারার বাজার। ধীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই বাজার। নদীর উপর নৌকাতেই চলে কেনা-বেচা। এই বাজার এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে করেছে গতিশীল। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে পর্যটকরা আসছেন এই বাজার দেখতে।
নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা সন্ধ্যা নদীর শাখা খালের উপর গড়ে উঠেছে দেশের একমাত্র ভাসমান পেয়ারা বাজার। এই বাজারের খালজুড়ে ভাসছে সারি সারি নৌকা। এর প্রতিটিতে সাজানো তাজা সবুজ-হলুদ পেয়ারা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে খালের বুকে যেন সবুজ-হলুদের ক্যানভাস ভেসে চলেছে! এমনই দৃশ্যের দেখা মেলে এই পেয়ারা বাজারে।
ভোরের আলোর ফোটার শুরু থেকে আটঘর কুড়িয়ানা, আদমকাঠি, জিন্দাকাঠিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের খালের বুক চিরে ছোট ছোট নৌকায় চাষীরা পেয়ারা নিয়ে এই বাজারে আসেন। দরদাম করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। দরদামে মিলে গেলে প্লাস্টিকের ট্রেতে ওপরে ওঠানো হচ্ছে পেয়ারা। দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতার হাট ডাকে মুখর হয়ে ওঠে এই বাজার।
বর্তমানে দেশের একমাত্র ভাসমান পেয়ারার হাট শুধু স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রই নয়, বরং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও একটি অনন্য দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এখানকার পেয়ারা আকারে বড় আর সুস্বাদু হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পদ্মা সেতু হওয়ার পর নেছারাবাদের পেয়ারার চাহিদা আরও বেড়েছে। এখন কৃষক ভালো মূল্য পাচ্ছেন।
পেয়ারাচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, হাট থেকে প্রতিদিন শত শত মন পেয়ারা চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতি মন পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ থেকে ৮শ’টাকা মণ দরে।
বাগেরহাট থেকে পেয়ারা কিনতে এসেছেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি কচুয়া উপজেলা থেকে আসছি, এই জায়গা দিয়া পেয়ারা কিনে বাজারে বিক্রি করব। এই পেয়ারা বাংলাদেশে আর কোথাও হয় না।’
এখানকার পেয়ারার বাজার ও চাষাবাদ কে কেন্দ্র কওে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র। এই হাট ঘিরে স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে।
নৌকার হাট দেখতে এসেছেন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কিঞ্জাল। তিনি বলেন, প্রতিবছর পেয়ারার মৌসুমে ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে আসি। দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। ছোট ছোট নৌকায় খালের ভেতর দিয়ে পেয়ারাগুলো যখন নিয়ে আসে, অসাধারণ লাগে। এরকম সৌন্দর্য আর কোথাও দেখা যায় না।
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (খামারবাড়ী) সৌমিত্র সরকার বলেন, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদে সব থেকে বেশি পেয়ারার চাষ হচ্ছে। জেলায় ৭১০ সেক্টর জমিতে এই ফলের আবাদ হচ্ছে। এর উৎপাদন ৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। প্রতি মৌসুমে এ পেয়ারার হাটে ২০ কোটি টাকারও বেশি পেয়ারা কেনাবেচা হয়। এখানে একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে এবং মৌসুমি পেয়ারা সংরক্ষণ করে রাখতে পারলে কৃষক ন্যায্য বাজারমূল্য পাবেন।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা অমিত দত্ত জানান, উপজেলার পুরো পর্যটনব্যবস্থা নিয়ে আমরা একটি পরিকল্পনা করেছি। কীভাবে এই পর্যটনকেন্দ্র আরও বেশি সুন্দর করা যায়। কীভাবে পর্যটকদের থাকা এবং খাওয়া এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এ ব্যাপারেও চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেও কাজ করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়