প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং
পৌরবর্জ্যে নষ্ট লেমুঝিড়ির ফসলি জমি জীববৈচিত্র্য

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবানে ১০ একর কৃষি জমিতে পৌরবর্জ্যে ছড়িয়ে চাষবাদের অনুপোযী হয়ে পড়েছে । এতে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ছড়িয়ে পড়া বর্জ্যের দুষিত পানি ঝিড়ির প্রাকৃতিক পানির সাথে মিশে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
জানা যায়,বান্দরবানের সদর উপজেলার লেমুঝিড়ি আগা ঘোনা পাড়ায় পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানিতে পৌরসভার বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। চড়িয়ে পড়া বর্জ্যে স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ১০ একরের তিন ফসলি কৃষিজমি সম্পূর্ণ চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের পাশে পৌরসভার ফেলা বর্জ্য বর্ষার পানিতে ধুয়ে নিচে ধানক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে। জমিতে প্লাস্টিক, পলিথিন, চিকিৎসাবর্জ্য (ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুচ, স্যালাইনের ব্যাগ) ও ভাঙা কাচ জমে থাকায় জমিতে কাজ করাই এখন জীবনঘাতী হয়ে উঠেছে। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা নির্বাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন তারা। একই সঙ্গে দূষিত হচ্ছে প্রাকৃতিক ঝিড়ির পানি এবং বিপর্যস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
কৃষকরা জানান, বর্জ্যরে কারণে ঠিকমতো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। এতে প্রতি বছর তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। জমি অনাবাদি হয়ে পড়ায় তাদের সংসার চালানো ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
বর্জ্যরে তীব্র দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে ‘লেমুঝিড়ি আপন নগর জ্ঞানদর্শন-বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র’ ধ্যান ও প্রার্থনা করা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। বিহারের অধ্যক্ষ জ্ঞানদ্বীপ ভিক্ষু জানান, ময়লার দুর্গন্ধে বিহারে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজের প্রধান ভরসা ছিল লেমুঝিড়ির স্বচ্ছ পানি। বর্তমানে মেডিকেল বর্জ্য ও প্লাস্টিকের কারণে ঝিড়ির পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। পানির ব্যবহারে চর্মরোগ ও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় গৃহস্থালি কাজে এই পানি ব্যবহার আপাতত বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু ও জীব বৈচিত্র্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান পৌর প্রশাসক এসএম মঞ্জুরুল হক জানান, খবর পেয়েই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমিতে থাকা বর্জ্য কীভাবে দ্রুত অপসারণ করে আবার চাষাবাদের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়