প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং
হাওরে শামুক নিধনে হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার হাওরে নির্বিচারে শামুক নিধন চলছে। একটি চক্র প্রতিদিন প্রকাশ্য এই শামুক তুলে বিক্রি করছে। এতে হুমকিতে পড়েছে হাওরের প্রাকৃতি ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য।
জানা যায়,নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গোপুতা সহ বিভিন্ন হাওরে বর্ষা মৌসুমজুড়ে অবাধে শামুক নিধন করা করা হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক চক্র দল বেধে পানি থেকে এই শামুক তুলে চড়া দামে হাস ও মাছের খামারে বিক্রি করছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি নৌকায় ২শ’ থেকে ২শ’৫০ বস্তা শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব শামুকের বাজারমূল্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা।
দিন রাত সমান তালে চলছে এই নিধনযজ্ঞ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য।
তেতুলিয়া ইউনিয়নের টলারঘাট এলাকায় নৌকা থেকে শামুক নামিয়ে রাখা হয় স্তূপ করে। পরে হাঁস খামারি ও মাছচাষিরা সেগুলো কিনে নিয়ে যান জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। শামুক সংগ্রহে নিয়োজিত শ্রমিকদেরও দেওয়া হয় মজুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে প্রকাশ্য অবাধে শামুক নিধন করা হলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই।
পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে শামুক নিধন চলতে থাকলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জলজ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রজনন।
তেতুলিয়া গ্রামের শামুক সংগ্রহকারী রাজীব জানান, মোহনগঞ্জের বিভিন্ন হাঁস খামারি ও মৎস্যচাষিরা আগেই শামুকের অর্ডার দেন। এরপর রাতভর হাওর থেকে শামুক সংগ্রহ করে নৌকায় ঘাটে আনা হয়। পরে রাস্তার পাশে বস্তাবন্দি করে বিক্রি করা হয়। এখানে প্রতি ক্যারেট শামুক ১৫০ টাকা আর এক বস্তা বিক্রি হয় ৩শ’ থেকে ৩শ’৭৫ টাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শামুক জলজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বিভিন্ন মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য এবং জলাশয়ের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে শামুক নিধনের ফলে জলজ প্রাণীর প্রজনন, খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান জানান,বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। সম্প্রতি অন্য একটি ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ২শ’জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে আবারও অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। এ বিষয়ে আইনি দিকও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়