প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 27, 2026 ইং
‘জলদাড়ি’র দুর্ভোগে হাজারও কৃষক

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের “জলদাড়ি’খালটি র্দীঘদিন খনন না হওয়ায় এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দখল, ভরাট আর পলি জমে সরু নালায় পরিণত হয়েছে এক সময়ের স্্েরাতবাহী খালটি। এতে জেলার ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলার অন্তত সাতটি গ্রামের হাজারো কৃষক দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়,জলদাড়ি খালটি এক সময় সচল ছিলো। পানি প্রবাহ থাকায় এখান দিয়ে নৌকায় পণ্য আনা নেয়া করা হতো। সময়ের পরিক্রমায় সেটি এখন দখল,দুষন ভরাট হয়ে সরু নালায় পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার মানুষের ঘর-বাড়ির সিমানার সাথে মিলিত হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার মধ্যবর্তী এই জলদাড়ির ওপর কাচাকুল, নওটিকা, কেশুরতা, কাটাহার, বাঁশথুপী, বালাখুর ও সমশিরা গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির সেচ ও পানি নিষ্কাশন নির্ভরশীল। জলদাড়ির স্বাভাবিক প্রবাহ থমকে যাওয়ায় সামান্য বর্ষাতেই এখন জমিতে পানি জমে থাকে। এতে রোপা আমন, আলু ও মৌসুমি ফসলের আবাদ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
খালটির এমন অবস্থার কারনে ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলার অন্তত সাতটি গ্রামের হাজারো কৃষক দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নওটিকা গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, একসময় জলদাড়িটি বেশ প্রশস্ত ছিল। বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যেত। সংস্কারের অভাবে এখন এটি সরু নালা হয়ে গেছে। পানি বের হতে না পারায় প্রতি মৌসুমেই আমাদের ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
শুধু এই কৃষকই নয়। এখানকার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় কৃষক এবং বসতিরা খালটির এমন ভগ্ন দশায় চরমভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য ঝড় বৃষ্টিতে মানুষের ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকার পরিবেশ দুষিত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাইফুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াদুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন খাল চিহ্নিত করেছি। সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় জেলা থেকে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই নওটিকা-কেশুরতা খাল বা জলদাড়িটি পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়