প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 26, 2026 ইং
স্রোত ও পানির অভাবে ব্যাহত ইলিশ প্রজনন

বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশালের মোকাম গুলোতে ইলিশ নেই। নেই প্রতিদিনের হাক-ঢাক আর ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড়। ঘাটে ট্রলার থেকে ইলিশ নামানোর সেই দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে না। এখানে এমন ইলিশ শুন্যতা এর আগে দেখেনি কেউ। বলছেন স্থানয়ি জেলে আর মাছ ব্যবসায়ীরা।
সাগরে ইলিশ মাছ না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে বরিশালের জেলে ও আড়তদারদের। বরিশালের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মৎস্য বিভাগ বলছে, নদীতে পর্যাপ্ত পানি ও স্রোতের অভাব, ডুবোচর সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নদীর মোহনায় ড্রেজিংসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবী,পাঁচ বছরে ইলিশ আহরণ কমেছে এক লাখেরও বেশি টন।
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, মৌসুমের শুরু হলেও ইলিশের আমদানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ব্যবসায়ীদের দাবি, যেখানে এ সময়ে প্রতিদিন এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ মণ ইলিশ পাওয়া যেত, সেখানে এখন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মণ মাছ মোকামে আসছে। ফলে আগে যেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০-৪০ লাখ টাকায়।
বরিশাল মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সুমন বলেন, এ বছর নদীতে ইলিশ খুবই কম। যারা সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন, তারাও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। ওভার ফিশিংয়ের কারণে ইলিশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যার প্রভাব অন্যান্য মাছের ওপরও পড়ছে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভাগে যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন ইলিশ আহরণ হয়েছিল, সেখানে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার টনে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে আহরণ কমেছে এক লাখেরও বেশি টন। বরিশাল বিভাগে ইলিশ আহরণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
মৎস্য বিভাগ বলছে, অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে নদীতে পর্যাপ্ত পানি ও স্রোতের অভাব, ডুবোচর সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
বরিশালের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘জুন থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও প্রকৃত ভরা মৌসুম সাধারণত জুলাই থেকে শুরু হয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আগমন বাড়বে। তখন ইলিশের দামও কমবে।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন,এ নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবন দান করতে হবে এবং ইন্টারন্যাশনাল যে আইন, সেই অনুযায়ী আমাদের পানির হিস্যা বাড়ানো দরকার। যখন ন্যাচারাল ফ্লোকে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় চালু করা হবে, তখন আবার নদীতে স্রোত ফিরে আসবে। এতে আবার ইলিশে সয়লাব হয়ে যাবে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়