প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং
কাজিপুরে দাম না থাকায় কমছে কাউনের চাষ

টি এম কামাল,কাজিপুর (সিরাজগঞ্জে)ঃ একসময় গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র মানুষের অন্যতম প্রধান খাদ্য ছিল কাউন। ভাতের বিকল্প হিসেবে কাউনের ভাত, পায়েস, ক্ষীর, খিচুড়ি, পোলাও ও পিঠার ব্যাপক প্রচলন ছিল। তবে ফলন তুলনামূলক কম এবং বাজারমূল্য আশানুরূপ না হওয়ায় বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী শস্যের চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে কাউনের আবাদ হয়েছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধান, গম, ভুট্টা, মরিচ ও মিষ্টিকুমড়ার মতো অধিক লাভজনক ফসলের দিকে কৃষকদের ঝোঁক বাড়ায় কাউনের আবাদ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় চরাঞ্চলে ব্যাপক পরিসরে কাউনের চাষ হলেও বর্তমানে মূলত যেসব জমিতে সেচের সুবিধা নেই, সেসব জমিতেই এ ফসলের আবাদ হচ্ছে। কাউন খরা সহিষ্ণু হলেও বৃষ্টিনির্ভর ফসল। এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কাউন আবাদ হয়েছে ৩৪ হেক্টর। ফলন হয়েছে ৩৪ মে:টন। প্রতি বিঘায় গড়ে ৪ থেকে ৫ মণ ফলন পাওয়া গেছে। ফসলটির জীবনকাল ১০০ থেকে ১২০ দিন এবং পরিচর্যার প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ কাউন ২ হাজার থেকে আড়াই টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ৬০-৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় এই মূল্য কম হওয়ায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না। উপজেলার চরাঞ্চলের চরগিরিশ গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে কাউনের আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু বাজারে দাম কম। প্রতি মণ কাউনের দাম ৩ হাজার টাকার বেশি হলে আমরা লাভবান হতে পারতাম।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কাউন পাখির খাদ্য হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হলেও এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্যশস্য। কাউনে প্রচুর প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅঙ্েিডন্টসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে কাউন দিয়ে তৈরি খাবারের চাহিদা কমে গেছে। তবে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আবারও এ ঐতিহ্যবাহী ফসলের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়